মনিরামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মালয়েশিয়ান প্রবাসী যুবক নিহত।
স্বজনদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগী করতে ঈদের ৬ দি আগে মালয়েশিয়া হতে দেশে এসছেন মনিরামপুর উপজেলার হেলাঞ্চী গ্রামের মতলেব আলী গাজীর বড় ছেলে মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক শিমুল। ভাগ্য কি নির্মম পরিহার ঈদ দিনে সড়ক দূর্ঘটনায় চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
স্ত্রী সীমা খাতুন, একমাত্র কন্যা কুয়াশাসহ মা-বাবা এক ভাই ও এক বোনসহ অনেক আত্মীয় পরিজনকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে তার না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার ঘটনাটি এলাকাবাসীর কাছে অত্যান্ত মর্মান্তিক। ঘটনাটি সরেজমিনে মঙ্গলবাল সকালে শিমুলের পৈত্রিক বাড়ী হেলাঞ্চী গ্রামে গেলে স্বজনদের আহাজারিতে আশপাশের আকাশ-বাতাস যেন ভারী হয়ে আসছিলো। স্বজনদের শোকের মাতমে গ্রাসবাসীও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলো না। হেলাঞ্চী গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, ঈদের দিন স্বজনদের সাথে ঈদের নামাজ আদায় করে কুরবানীর পশুর মাংশ কাটাকাটি করার এক পর্যায়ে শিমুল জানতে পারে তার ভাগ্নি আশা অসুস্থ্য হয়ে মনিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ খবর পাওয়া মাত্র তড়িঘড়ি করে তিনি কিছু খাদ্য সামগ্রী নিয়ে মটরবাইকে চড়ে হাসপাতালের উদ্যোশে বাড়ী থেকে বের হয়ে যায়। বেলা তিন টার দিকে তিনি মনিরামপুর-রাজগঞ্জ সড়কের আকরাম মোড় নামক স্থানে পৌছলে রাজগঞ্জ-মনিরামপুর গামী অপর এক মটর সাইকেলের সাথে মুখোমখি সংঘর্ষ হয়। এত শিমুল গুরুত্বর আহত হন।
আর অপন মটর সাইকেলের চালক সহ দুই যাত্রী আহত হয়। খবর পেয়ে মনিরামপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গুরুত্বর আহত শিমুলকে উদ্ধার করে মনিরামপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে বর্তব্যরত ডাক্তার তার অবস্থা আশংকাজন হওয়ায় তাকে যশোর ২৫০শয্যা হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে সেবারত অবস্থায় সন্ধ্যায় মারা যান। কোন প্রকার ময়না তদন্ত ছাড়াই জানাজার শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এদিকে মঙ্গলবার সকালে নিহত শিমুলের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, তার পিতা মতলেব, মাতা- সখিনা, স্ত্রী সীমা ও ছোট ভাই সুমনের আহাজারিতে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। তার পিতা মতলেব প্রলাপ বকছ্ আর বলছে জমি জমা বন্ধক রেখে সংসারে স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে বছর আগে বড় ছেলে শিমুলকে মালয়েশিয়া পাঠিয়েছিলাম।
সেখানে সে ভাল চাকুরী করে অনেক টাকা রোজগার করেছে। এখন আমার সংসারে কোন অভাব নেই। দুই ছেলে ও মেয়ে নিয়ে আমার সংসার এখন সুখের। আমার শিমুল বিদেশের মাটিতে পরিবারের সুখের কথা ভেবে অনেক কষ্ঠ করেছে। অনেক দিন পর বাড়িতে এসেছে পরিবারের সাথে সুন্দরভারে ঈদ কাটাবে বলে। কিন্তু সে সুখ তার সইলো না। এই কথা বলে তিনি কান্নায় ভেঙেপড়েন ও নির্বাক হয়ে যান।




No comments