হাসপাতালে রোগী আছে (মনিরামপুর), ডাক্তার নাই!
স্বাস্থ্য খাতে বিপর্জয়! কথাটি শুনতেই যেন কেমন লাগে। বিশেষ প্রয়োজনে গিয়ে ছিলাম মনিরামপুর উপজেলা হাসপাতালে। ঘড়ির কাটায় তখন সকাল ১০ বেজে ১০ মিনিট। হাসপাতাল বর্হিবিভাগে টিকেট নিয়ে বসে আছেন সব বয়সীর ৩০-৪০ জন রোগী। দেখা নেই কোন ডাক্তারের। রোগীদের কেউ কেউ টিকেট হাতে নিয়ে ঘোরাফেরা করছেন। কেউবা আবার টিকেট কাউন্টারে গিয়ে ডাক্তারের খোঁজ নিচ্ছেন। আবার কারো অপেক্ষার প্রহর পেরিয়েছে ঘন্টার ওপরে। কিন্তু দুংখের বিষয় ডাক্তারের দেখা মিলছে না। এই চিত্রটি মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের।
হাসপাতালের একম চিত্র নতুন নয়। প্রায়ই হাসপাতালের বহির্বিভারে গেলে দেখা মেলে এমন দৃশের। হাসপাতালে এসে সেবা না পাওয়ার অভিযোগ রোগীদের অহরহ। অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সকাল ১গ টার দিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে গিয়ে সত্যতা মিলেছে।
এই বিভাগের এক নম্বর কক্ষে ডাক্তার অনুপ কুমার বসুকে দেখাবেন বলে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন রোগী টিকেট জমা দিয়ে বসে আছেন। তিনি চেম্বারে নেই। খবর নিতেই তার সহকারী জানান, স্যার আছেন, আসবেন। দুই নম্বর কক্ষের দরজা মুখোমুখি লাগানো। ভেতরে কেউ নেই। ওই কক্ষেরর বাইরের ওয়ালে ডাক্তার আমিরুজ্জামান ও ডাক্তার রাজিব কুমার পালের নেমপ্লেট রয়েছে।
অপর দিকে চার নম্বর কক্ষের দরজা টানা। ভেতরে ডাক্তারের চেয়ার খালি। ওই কক্ষের দরজায় ডাক্তার রেহেনেওয়াজের নেমপ্লেট। ১৩ নম্বর কক্ষে রোগী দেখেন ডাক্তার জেসনি সুমাইয়া। তার চেয়ারটাও খালি। ছয় নম্বর কক্ষে রোগী দেখেন একজন উপসহকারী। তার রুমে ফ্যান চলছে, তিনি নেই।
ডাক্তার অনুপ কুমার বসুকে দেখাবেন না বলে তার কক্ষে বসে আছেন হেলাঞ্চী গ্রামের বৃদ্ধা হালিমা বেগম। তিনি বলেন, "সকাল আ্ট্টার পরে আইছ।এহনো ডাক্তার পাইনি।" ওই ডাক্তারের অপেক্ষায় বসে আছেন একই গ্রামের তানজিলা। তিনিও এসেছেন সাড়ে নয়টায়। একই ডাক্তারের অপেক্ষায় দুর্গাপুর গ্রামের বৃদ্ধা মাসুদ আলী। তিনিও ডাক্তার পাননি বলে জানিয়েছেন্।
এদিকে বহির্বিভাগে গণমাধ্যমকর্মীর উপস্থিতি টের পেয়ে তড়িঘড়ি করে চেম্বারে প্রবেশ করেছেন ডাক্তার অনুপ কুমার বসু ও ডাক্তার জেসমিন সুমাইয়া। বাকিরা কেউ বহির্বিভাগে তাদের চেম্বারে আসেননি। জানতে চাইলে ডাক্তার অনুপ কুমার বসু বলেন, স্যারের রুমে মিটিং-এ ছিলাম।' ডাক্তার জেসমিন সুমাইয়াও একই কাজে ছিলেন বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিতেই জানা গেল, ডাক্তার আমিরুজ্জামান জরুরী বিভাগে আছেন। তবে সেখানে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার পরিবর্তে সেবা দিচ্ছেন একজন উপসহকারী। আর ডাক্তার রেহেনেওয়াজ দোতলায় ট্রেনিং করাচ্ছেন। তরে এদের কেউই পনে ১০টার আগে হাসপাতালে আসেননি বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়। যদিও সকাল সাড়ে আটটায় তাদের কর্মস্থলে আসার কথা।
যশোরের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা আব্দুল গফ্ফার বলেন, 'ওদের নিয়ে মিটিং করছিলাম।' রোগীদের চেম্বারে ফেলে রেখে মিটিং করা যাবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, 'ডিজি মহোদয় যশোর অঞ্চলে ভিজিটে আছেন। এখন এখানে এসে পড়েন। তাই ওদের মোটিভেশন করছিলাম।




No comments