ঘরে ঘরে গিয়ে জন্মসনদ যাচাই-বাছাই করে দেখবে সরকার।
সরকার প্রতিটি ঘরে গিয়ে বসবাসকারীদের জন্ম সনদ যাচাই-বাছাই করে দেখবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর লাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেজ প্রকল্পের গণনাকারীরা প্রত্যেকের বাড়ীতে গিয়ে কোন বাসায় কতজন লোক থাকের এবং কার ব্রাকগ্রাউন্ড কি তা জানবেন। এ কাজে তাদের সহযোগিতা করবেন সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। এ সময়ে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ জতীয় পরিচয় পত্র এবং জন্ম সনদ পত্র গণনাকারীকে দেখাতে হবে। এ ধরনের তথ্য সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো একটি চিঠি ইস্যু করেছে গত বছরের ৭ই ডিসেম্বরে। সেখানে বলা হয়েছে, আগামী ১৪ই জানুয়ারী ২০১৮ থেকে ০২রা ফেব্রুয়ারী-২০১৮ পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগের মোট ২৫টি জেলায় প্রতিটি খানা থেকে এ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এ কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য ইসলামি ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মো. আমীর হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি প্রতিটি মসজিদের ইমামদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসলামী ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নুরুল ইসলাম বলেন, বাড়ী বাড়ী নিয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য পরিসংখ্যান ব্যুরো আমাদের সহযোগিতা চেয়েছেন। আর আমরা এ ধরনের কাজে সহায়তার জন্য মসজিদগুলোতে একটা সার্কুলার বা চিঠি দিয়েছি। যাতে মানুষ তাদের সহযোগিতা করতে পারে।
সাধারণ এ সব নাগরিকদের কাছে কি ধরনের তথ্য আপনারা নিতে চান এম প্রশ্নের জবাবে মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুজরুল ইসলাম বলেন, এটা পরিসংখ্যান ব্যুরোর কাজ। তারা যে ধরনের তথ্য নিতে চায় নেবে। আমরা তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করবো। এ বিষয়ে নাগরিকদের আতঙ্কের কোন কারণ নাই।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ভাষ্যমতে, এর আগে প্রথম দফায় রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু জেলাসহ মোট ১৭টি জেলায় এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচীর উপকারভোগী বাছাই আরো স্বচ্ছ ও সহজতর হবে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
এ বিষয়ে পরিসংখ্যান ব্যুরোর ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেজ (এনএইচডি) প্রকল্পের পরিচালন মো. আমীর হোসেন বলেন, সারাদেশের প্রতিটি খানা থেকে পর্যায়ক্রমে সকল নাগরিকের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে একটি তথ্য ভান্ডার তৈরি করা হবে। এ তথ্য ভান্ডারে প্রতিটি নাগরিকের আর্থ সামাজিক অস্থানের আণোকে শ্রেণীবিণ্যাস করা হবে।
তিনি আরো বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সেক্টরগুলো নানা উন্নয়ণ কর্মকান্ড পরিচালনার আগে এই তথ্য ভান্ডার থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নেবেন। অনেক সময় নাগরিকের নানা সুযোগ সুবিধা বন্টনে মিসিংয়ের ঘটনা ঘটে তা ঠেকাতেও এ তথ্য ভান্ডার অনেক বেশি কাজ দেবে।
এটি কি আদমশুমারীর কাজের অংশ না কি ভিন্ন কোনো উদ্দ্যেশে এ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এমন প্রশন্রে জবারে মো. আমীর হোসেন বলেন, এটা কোনো আদমশূমারী নয়। এটি আলাদা করে প্রতিটি নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে।




No comments