নালিতাবাড়ীতে যুবতীর খন্ডিত মাথা ও দেহ উদ্ধার
শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ীতে রোকশানা বেগম (২২) নামে এক যুবতির খন্ডিত মাথা ও
দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২৬ জানুয়ারি শুক্রবার দুপুরে উপজেলার রাজনগর
ইউনিয়নের সুরতখাল সংলগ্ন একটি আবাদি জমিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় এ লাশ উদ্ধার
করেছে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ। রোকসানা ঝিনাইগাতী উপজেলার বনগাঁও পূর্বপাড়া
গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে,
উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের চাঁদগাও গ্রামের আব্দুল খালেকের
ছেলে মাসুদ নামে এক ব্যক্তি এক সন্তানের জননী রোকসানাকে কাজ দেওয়ার কথা
বলে গত ১৭ জানুয়ারি নালিতাবাড়ীতে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। এর পর গত ১৭
জানুয়ারি মঙ্গলবার থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। হঠাৎ করেই ২৫
জানুয়ারি বৃহষ্পতিবার সকালে সুরত খাল সংলগ্ন একটি জমিতে একটি মহিলার লাশ
পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ইউপি চেয়ারম্যানকে কে জানায়। পরে সে বিষয়টি
পুলিশকে জানালে, নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহের কোন সন্ধান
পাননি। পরে এলাকাবাসী সুরতখালের পানি সেঁচে রাত ভর লাশের সন্ধান করতে
থাকে। কিন্তু সেই খালের পাশে মাসুদের জমিতে রাতের মধ্যেই তড়িঘড়ি করে বোরো
ধান রোপণ করা দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। তাই সকালে এলাকাবাসী তল্লাশি
চালানোর পর জমির এক জায়গায় পুঁতে রাখা অবস্থায় খন্ডিত মাথা ও আরেক জায়গায়
শরীরের কিছু অংশ পায়। তবে হাত ও পা পাওয়া যায় নি। খবর পেয়ে রোকশানার মা
পরিহিত জামা দেখে তার মেয়ের মৃতদেহ সনাক্ত করেন। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত
মাসুদ গা ডাকা দিয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদের
চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ বকুল বলেন, চাঁদগাঁও গ্রামের মাসুদ এলাকায় একজন
চিহ্নিত অপরাধী। আমার ধারণা মেয়েটিকে কাজ দেওয়ার নাম করে বাড়িতে এনে, তাকে
ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পরে লোকজন টের পেয়ে গেলে তার লাশ গুম করার
জন্য টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় পুঁতে রাখা হয়। মাথা ও শরীর উদ্ধার
হলেও, হাত ও পা এখনও পাওয়া যায় নি। এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ীর সহকারী পুলিশ
সুপার (এএসপি) জাহাঙ্গির আলম জানান, লাশের হাত ও পা উদ্ধারের জন্য তল্লাশি
অব্যাহত রয়েছে। এদিকে এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা
হয়েছে।




No comments