সংবাদ শিরোনাম

বাসে উঠে একটা খালি সিট পেলাম: একটু পরেই ২০ বছর বয়সী একটা সুন্দরী মেয়ে পাশে বসল।

Ad Code


বাসে উঠে একটা খালি সিটে পেলাম। জানালার পাশে আমি বসলাম, আর পাশের সিটটা খালি। একটু পরেই দেখি ১৮/২০ বছর বয়সী একটা সুন্দরী মেয়ে উঠলো। বোরকা পড়া, মাথায় হিজাব দেয়া। মেয়েটার এক নজর দেখলেই বোঝা যায় খুবই ভদ্র ো অবস্থা সম্পন্ন ঘরের মেয়ে। এদিকে ওদিকে সিট খুজে না পেয়ে  শেষে আমার পাশে এসে বসলো। হাতে একটা মোবাইল। দেখে বোঝা যায় অনেক দামী একটা মোবাইল। 

কিছুদুর যাবার পর বাস আবার জ্যামে পড়লো। মেয়েটা বলে উঠলো, অসয্য জ্যাম। আমিও হুম বলে সম্মতি জানালাম। এরপর টুকটাক কথা হতে লাগলো। বাসও চলতে শুরু করলো। কথায় কথায় জাললাম মেয়েটি ইঙরেজিতে অনার্স করছে। কুবই ফ্রি ভাবে কথা কলছিলাম আমরা। 

এয়ারপোর্টের ওখানে গিয়ে আবারো জ্যামে পড়লো বাস। বিরক্তিকর জ্যাম। জ্যামের মধ্যেই বাসে ঠলো সাদা শার্ট পড়া কালো চেয়াহার মধ্যে বয়সী একটা লোক। অনেক দিনের পুরনো বোধ হয় শার্টটা। ময়লা হয়ে আছে। তার হাতে অনেক গুলো নামাজ শিক্ষা বই। কাঝে কালো রঙের একটা ব্যাগ। লোকটা নামাজ শিক্ষার বই বিক্রি করছে। লোকটা অনেকক্ষণ যাবৎ বইতে  কি কি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া, সুরা মাসলা ইত্যাদি আছে তা বর্ণনা করলো। কিন্তু বাসের কেউ একটা বই ও কিনলো না। 

আমার খুবই খারাপ লাগলো। ইচ্ছে করছিল লোকটাকে কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করি। কিন্তু লোকটাকে টাকা দিতে চাইলে যদি কিছু মনে করে। তাই দিলাম না। একটা জিনিস লক্ষ করলাম লোকটা বাসে ওঠার পর থেকে মেয়েটা আমার সাথে একটা কথাও বলেনি। মাথা নিচু করে মোবাইল পিটতেছে। 

বাড়িতে নামাজ শিক্ষা বই থাকার সত্ত্বেও শুধু মাত্র লোকটিকে সাহায্য করার ইচ্ছায় বিশ টাকা দিয়ে দুইটা বই কিনলাম। লোকটিকে পঞ্চাশ টাকার নোট দিলে যে ত্রিশ টাকা ফেরত দিল। টাকা ফেরত দেবার পরেও দেখি সেপকেট থেকে আরও টাকা বের করছে। একটা একশ টাকার ণোর আর কয়েকটা দশ টাকার নোট। 

আমার দিকে এগিয়ে ধরলো। আমি তো অবাক। আমাকে টাকা দেবেন কেন উনি। আমার ভুল ভাঙলো তার ডাক শুনে। তিনি আমাকে না মেয়েটিকে টাকা দিচ্ছেন। তিনি বললেন, সোমা টাকাটা রাখো। কিছু কিনে খেয়ে নিও। তোমার মা বললো, তুমি সকালে না থেকেই ভার্সিটিতে চলে আসছো। মেয়েটি লজ্জায় মরে যাচ্ছিল। সে অত্যান্ত রেগে লোকটার দিকে তাকালো। 

বললো লাগবে না। লোকটি জোর করে টাকাটা তার হাতে দিয়ে বাস থেকে নেমে গেল। 

No comments